Logo

মাটির কলস! এক সময়কার যত আবেগ

অনলাইন ডেক্স;
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন, ২০২১

গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া এক ঐতিহ্যের নাম মাটির কলস। কতশত আবেগ লুকানো থাকত এই কলসে।ছোট বাচ্চা থেকে নিয়ে সবাই এই কলসে আবেগ রাখত।মাটির কলসকে শুধু পানি রাখার জন্য ব্যবহার করা হতনা।সেই সাথে চাল, ডাল, টাকা পয়সা, সোনা, গহনা ও রাখা হত এই কলসে।

সবচেয়ে বেশি আবেগ ধারণ করত তখন। ঘরের গৃহিণী যখন রান্না করার জন্য চাল নিতেন মেপে মেপে, তখন এক মুষ্ঠি চাল আলাদা একটি কলসে রাখতেন। প্রতিদিন তিনবার রান্নার সময় এক মুষ্টি চাল রাখা হত আলাদা কলসে। মাস ছ মাস খানেক পরে দেখা যেত কলসটি পূর্ণ হয়ে গেছে।চোখে মুখে সুখের ক্রন্দন দেখা যেত।এই চাল বিক্রি করে কখনো ঘরের রাণী চিরদুখী মা জননী সন্তানদের চাওয়া পাওয়া পূরণ করতেন।কখনো বা আশায় রাখতেন কলসটি পূর্ণ হোক তোর সব আয়েশ মিটিয়ে দিব।

বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে এমন কতশত আবেগ আজ লুকায়িত। আশার পথিক হয়ে মায়াবী চাহনি নিয়ে থাকতেন কখন কলসটি পূর্ণ হবে।কলসটি পূর্ণ হলেই যে তার সব আবেগের একটু হলেও পূর্ণতা পাবে। ছোট বাচ্চারা এই কলসকে ব্যাংক ও মনে করত।পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা মাটির কলসে টাকা রাখত।এটা দেখে ছোট নে বাচ্চাটি আড়ি পেতে থাকত,অনুমতি নিয়ে না নিয়ে নিজের পছন্দের জিনিস কিনতো তারা।মাটির সে কলসকে ঝুলিয়ে রাখা হত রশি দিয়ে বাঁশের সাথে। সাড়ি সাড়ি করে ঘরের এক দিকে কলস গুলো স্থান পেত।দেখতে কতইনা অপূর্ব দেখা যেত।স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতেন মা বোনেরা।এটা শুধু কলস নয় পুরো বছরের খাদ্য সরবারাহের গুদাম ও বটে। কলসের সে চালের স্বাদটাও যেন পরিবর্তন ছিল। ঘটা করে ৩/৪ কলসে সারা বছর পিঠা বানানোর জন্য তড়িঘড়ি করে রেখে দিতেন কিছু চাল।আলাদা সুগ্রান ছিল যেন সে চালের। কখনো বা কিশোরী পুকুরে পানি আনতে গিয়ে কোমড় ভেঙেছে।তা দেখে হেসে কোপোকাত হত আবালবৃদ্ধবনিতা। অনেক সময় দুষ্ট ছেলে তীর ধনুক নিয়ে কিশোরীর কলস বরাবর তীর ছুঁড়ে ফুটা করে দিয়েছে।সব পানি পড়ে শেষ। কিশোরীর সে রাগি মাখা মুখ দেখে দুষ্ট ছেলে খুব মজা পেত।

মাটির সে কলস হারায় নি, যেন হারিয়ে গেছে কলসের সে পানির স্বাদ।কতশত আবেগ আজ চোখে পড়েনা। দেখতে পাওয়া যায়না কিশোরীর সেই ভার মুখ। হারিয়ে গেছে সময়ের বিবর্তনে কতশত আবেগ। যে কলসে বাংলার সহজ সরল জননীদের ছিল দীর্ঘ প্রহর গুণা স্বপ্ন। স্বপ্নকে সত্যি করে মিটে দিতেন সন্তানের সব চাওয়া পাওয়া। সময়ের স্রোতে হারিয়েছে ঐতিহ্য, হারিয়েছে মানুষ গুলো। অন্তরালে রয়ে গেছে ভালোবাসা প্রদর্শনের শত আবেগ।

খাদিজা ইসলাম
শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মী


More News Of This Category
Theme Created By Tarunkantho.Com