Logo

শীতের আগমনে মানিকগঞ্জে লেপ তোষকের করিগরদের ব্যস্ততা

আরিফুর রহমান অরি, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: সোমবার, ৮ নভেম্বর, ২০২১
লেপ তোষকের করিগরদের ব্যস্ততা

মানিকগঞ্জে গ্রাম-গঞ্জে এখন চলছে শীতের আমেজ। তাই ক্রেতারা খোঁজ শুরু করেছেন লেপ-কম্বলের। নতুন লেপ-কম্বল যেমন কেনা হচ্ছে, তেমনি পুরোনো লেপ নতুন করে বানিয়েও নিচ্ছেন অনেকে।

লেপ-কম্বল বিক্রির দোকানগুলোতে ও তৈরীর স্থানগুলোতে এমনি দৃশ্য এখন নিত্যদিনের।কালের আবর্তে মোটা কাথা ও নকশী কাথার কদর কমলেও ঐতিহাসিক আর ঐতিহ্যের তুলো-রুইয়ের তৈরী লেপের কদর কমেনি বিন্দুমাত্র। উল্টো শীতে উষ্ণতা ছড়াতে লেপ ও কম্বলের জুড়ি নেই বলেই মনে করে সাধারণ মানুষ। প্রাচীনকাল থেকেই এর ব্যবহার হয়ে আসছে।

জানা যায়, শীতের আগমনী বার্তায় ব্যস্ততা বেড়েছে বিভিন্ন লেপ-তোষক তৈরির কারিগরদের এবং লেপ কম্বলের রেডিমেড দোকানে। শীত জেকে বসার আগে তাই লেপ-তোষক তৈরির ধুম লেগেছে সাধারণ মানুষের মাঝে। ফলে লেপ-তোষকের দোকানে বাড়ছে বেচা-কেনা। এসব দোকানের কর্মচারীদের এখন অলস সময় কাটানোর একদম ফুরসত নেই।

মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লায় লেপ-তোষক তৈরির কারিগররা এখন হাঁক-ডাক করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অনেকে নিজেরাই গিয়ে লেপ-তোষক তৈরির কারিগরদের খুঁজে বের করে লেপ তৈরির জন্য ঠিক করছেন।

শুধু লেপ-তোষক তৈরিই নয়, শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে মানুষের পোশাক-পরিচ্ছদ ও ব্যবহার্য সামগ্রীতেও পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। পাতলা পোশাকের পরিবর্তে অনেকেই মোটা জামার দিকে ঝুঁকছেন। তাই এখন কদর বাড়তে শুরু করেছে গরম পোশাকেরও। এ ছাড়া শীতের সময় কাঁথা, কম্বল, চাদর বা শাল, শীতের টুপি, হাতমোজা, মাফলার, জাজিম ও কার্পেটের ব্যবহার ও বিক্রি বেড়ে যায়।ছয় ঋতুর এই দেশে শীতের আগমনী বার্তা শীতকালে হওয়ার কথা থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তা এখন ঋতুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে না।কার্তিকের শেষের দিকে এসে শীতের আমেজ দেখা যাচ্ছে,ভোরে হালকা কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে।

সূর্য উঠার ঘণ্টা দুই পরেই আবার বদলে যাচ্ছে প্রকৃতির এমন রূপ। তখন রোদের তাপে শীতের কুয়াশা দূর হয়ে গরমে ঘাম ঝরছে বিভিন্ন এলাকার মানুষের। সন্ধ্যা নামার পরপরই প্রায় সারারাত মাঝারি শীতের কারণে বাসা-বাড়িতে শীত নিবারণের জন্য পাতলা কাঁথা ব্যবহার শুরু হয়েছে ইতোমধ্যেই।তবে বেশিরভাগ মানুষই শীত নিবারণে সাধারণত নির্ভর করেন লেপ-তোষকের ওপর।

স্থানিয় ব্যবসায়ীরা জানান, লেপ-তোষক বানাতে গার্মেন্টেসের ঝুট ও কার্পাস তুলো ব্যবহার করতে হয়। একটি সিঙ্গেল লেপ বানাতে ৬৫০-৭০০ টাকা, সেমি-ডাবল লেপ ৭০০-৯০০ টাকা এবং ডাবল লেপ তৈরিতে ৭৫০-১৮০০ টাকা বিক্রি হয়। এরমধ্যে রয়েছে সুতো, কাপড় ও মজুরি ব্যয়।

তবে, তোষক বানানোর ক্ষেত্রে দাম বেশি পড়ে। তুলার মান, পরিমাণ, নারিকেলের ছোবলা ও কাপড়ের ওপর নির্ভর করে একেকটি তোষক তৈরির ব্যয়। তবে আমাদের সকলের একটায় দাবী সরকারি ভাবে এই পেশায় সম্পৃক্ততা যারা রয়েছে প্রশাসন আমাদের পাশে থেকে সহযোগীতা করবে বলে আশা রাখি।


More News Of This Category
Theme Created By Tarunkantho.Com