Logo
শিরোনাম :
বান্দরবানে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মাননীয় মন্ত্রী ই-পাসপোর্ট পেতে বিড়ম্বনার শিকার সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসীরা সিংগাইরে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ বানিজ্য লেনদেনে অভিযোগ বাঘায় তিন দিনেও নিখোঁজ শিশুর সন্ধান মেলেনি বদলগাছীতে মোটরসাইকেল-ভুটভুটির সংঘর্ষে একজনের মর্মান্তিক মৃত্যু বাঘার সিফাত জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় অনাহারী স্ত্রী সন্তানরা দিন মজুর রেজাউল করিমের হত্যার বিচার চায়। শ্রমিকের ন্যায্য হিস্যা বুঝিয়ে দিন; ইউএনও দীপন দেবনাথ ঠাকুরগাঁওয়ে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন করবেন মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ




জাদুকরের হাতেই শোভাপায় জাদুময় অধরা স্বপ্নের বিশ্বকাপ

আজকের তরুণকণ্ঠ :
প্রকাশকাল : সোমবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২২
জাদুময় অধরা স্বপ্নের বিশ্বকাপ

আ. আলীম, স্টাফ রিপোর্টার:

লিওনেল মেসি, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মহাতারকা। গোল এই ফুটবলটাকে ঘোরাতে পারেন যেভাবে খুশি সেভাবে তাই তো তাকে ফুটবলের জাদুকর বলা হয়। ক্যারিয়ারে তার অর্জন অসংখ্য, তার নামের পাশে প্রায় সবরকমই উপাধি জড়িত।বিশ্ব ফুটবলের সকল ট্রফিই তার কাছে রয়েছে। মুকুটে ও রয়েছে অসংখ্য পালক। শুদু একটা বিশ্বকাপ ট্রফিই ছিল না এই জাদুকরে ক্যাবিনেটে। গত কাল থেকে সেটাও জ্বলজ্বল করছে তার ভান্ডারে।

যে কারণে তাকে দিয়াগো ম্যারাডোনা, পেলেদের থেকে অনেকেই কিছুটা পিছিয়ে রাখতেন। কিন্তু রবিবার রাতে কাতারে সেই অধরা বিশ্বকাপও জিতলেন লিওনেল মেসি। তারপরই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি মেসিই বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলার? রবিবার কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ২৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন মেসি। তারপর আর্জেন্টিনার যে দ্বিতীয় গোলটা হয়, সেটা কার্যত তৈরি করে দেন ফুটবলের রাজপুত্র মেসিই।

মাঝমাঠের নীচ থেকে দুটি টাচে ফ্রান্সের রক্ষণকে ছন্নছাড়া করে দেন। তারপর ১০৮ মিনিটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ফের এগিয়ে দেন মেসি। পেনাল্টি থেকেও গোল করেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। শুধু ফাইনালেই যে মেসি ম্যাজিক দেখেছে বিশ্ব, তা মোটেও নয়। এবার বিশ্বকাপ দুনিয়াটা ছিল মেসির। সেই দুনিয়ায় বাকিরা খেলতে এসেছিলেন। মেসি যেন কোনও চিত্রশিল্পী হয়ে উঠেছিলেন, যিনি নিজের ইচ্ছামতো ছবি আঁকছিলেন। তাতে কেউ কিছু করতে পারছিলেন না।

এবারের বিশ্বকাপে মোট সাতটি গোল করেছেন।সবমিলিয়ে বিশ্বকাপে মোট ১৩টি গোল করেছেন মেসি, যা আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ। এমনকি এতদিন যে মেসির বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বে একটিও গোল ছিল না, সেই ফুটবলের রাজপুত্র এবার রাউন্ড অব ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে গোল করেছেন। বিশ্বের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে সেই নজির গড়েছেন তিনি। দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নিজে গোল করেছেন। দলের সতীর্থদের গোল করিয়েছেন।

সবথেকে বড় কথা, বিশ্বকাপ জিতেছেন। তারপরই স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, এবার কি মেসিকে বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলারের তকমা দেওয়া যায়?
এতদিনে পেলে বা ম্যারাডোনার সঙ্গে মেসিকে সমকক্ষে রাখতেন না অনেকে। তাদের বক্তব্য ছিল, দেশকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারেননি মেসি। যে কাজটা করে দেখিয়েছেন পেলে এবং ম্যারাডোনা। এবার মেসিও সেই অধরা বিশ্বকাপ ট্রফিও হাতে তুলে নিলেন। দুনিয়ার কোনও সাফল্য বাকি রইল না তার।

মেসির ট্রফি ক্যাবিনেট ফুটবল বিশ্বকাপ: ১
কোপা আমেরিকা: ১ অলিম্পিক: ১ স্বর্ণ
ব্যালন ডি’ অর: ৭ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ: ৪
লা লিগা (স্পেনের ঘরোয়া লিগ): ১০
লিগ ওয়ান (ফ্রান্সের ঘরোয়া লিগ): ১ মেসির গোল সংখ্যা মোট ম্যাচ: ১,০০ মোট গোল: ৭৯৩
বিশ্বকাপে গোলের সংখ্যা: ১৩ (আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ)। সেইসঙ্গে আটটি অ্যাসিস্ট করেছেন, যা ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে সর্বোচ্চ।

নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার একেকটি জয়, আর লিওনেল মেসির ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হওয়া যেন অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল এবার। শেষটায়ও ব্যতিক্রম হলো না। আসরজুড়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় ফাইনালেও আলো ছড়ালেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। বিশ্বকাপ জিতে পূরণ হলো তার স্বপ্ন।

টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের মতো ফাইনালের সেরাও হলেন তিনি। ক্যারিয়ারের প্রথম চার বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে কোনো গোল করতে পারেননি মেসি। এবার এই ধাপে চার ম্যাচের প্রতিটিতে জালের দেখা পেয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী তারকা। আর সবগুলির সেরা খেলোয়াড় তিনি।

এছাড়া আরেকবার সেরার পুরস্কার পান গ্রুপ পর্বে। দলের শিরোপা জয়ের পথে ৭ ম্যাচে মেসি করেছেন আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭ গোল। লুসাইল স্টেডিয়ামে রবিবারের (১৮ ডিসেম্বর) ফাইনালে আর্জেন্টিনার শেষের নায়ক যদিও এমিলিয়ানো মার্তিনেস। টাইব্রেকারে ফ্রান্সের কিংসলে কোমানের শট ফিরিয়ে দলের ৪-২ ব্যবধানের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন অ্যাস্টন ভিলার এই গোলরক্ষক।

পেনাল্টি শুটআউটে বল জালে পাঠানোর পাশাপাশি মূল ম্যাচে জোড়া গোলের সুবাস ছড়ান মেসি। ২৩তম মিনিটে তার পেনাল্টি গোলেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। খানিক পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আনহেল দি মারিয়া। প্রায় পুরোটা সময় কোণঠাসা হয়ে থাকা ফ্রান্স সমতা ফেরায় ৮০ ও ৮১ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের দুই গোলে। তাতে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে ১০৮তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলে আরেকবার আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন মেসি। নাটকীয় লড়াইয়ে ১১৮তম মিনিটে এমবাপের হ্যাটট্রিক পূরণে আরেকবার চিত্র বদল, এরপর টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার হাসি।

কাতার বিশ্বকাপের পুরো আসর জুড়ে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে দলকে পথ দেখানো আর্জেন্টিনা অধিনায়ক আলো ছড়ালেন ফাইনালেও। তাতে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জিতলেন তিনিই। এতে ইতিহাসের এমন এক পাতায় নাম লেখালেন আর্জেন্টাইন মহানায়ক, যেখানে পা পড়েনি আর কারো। একমাত্র ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে দুইবার সেরা খেলোয়াড় হলেন তিনি।

২০১৪ সালে প্রথমবার পুরস্কারটি জিতেছিলেন মেসি। তার নেতৃত্বে সেবারও ফাইনাল খেলেছিল আর্জেন্টিনা। জার্মানির বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শেষ মুহূর্তে মারিও গোটসের গোলে হেরে শিরোপা ঘরে তোলার স্বপ্ন ভাঙে তাদের। অবশেষে এবার ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্ব সেরার মঞ্চে ৩৬ বছরের শিরোপা খরা কাটায় মেসির আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনার হয়ে ফুটবল বিশ্বকাপ জেতার পর লিওনেল মেসি বিভিন্ন গন মাধ্যমকে জানান, এখনই তিনি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছেন না। আগের মতোই খেলা চালিয়ে যাবেন।বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই আমি আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলা চালিয়ে যেতে চাই।

যদিও বিশ্বকাপে আর মেসিকে দেখা যাবে কিনা, সেই প্রশ্নের জবাবটা অনেকটা জানা হয়েই গেছে। মেসিও বলেছেন, এটাই হয়তো তার শেষ বিশ্বকাপ।
তবে বিশ্বকাপ জয় করেই জাতীয় দলকে বিদায় বলছে না মেসি সেটা নিশ্চিতভাবেই তিনি জানিয়েছেন।


আরো পড়ুন

চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে আমাদের সাথে থাকুন:




ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে সাথে থাকুন:
Theme Created By Tarunkantho.Com