শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ০৪:০৭ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
অনলাইন নিউজ পোর্টাল “আজকের তরুণকণ্ঠে” জেলা, উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে সাংবাদিক/প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা  ইমেইলে (newstarunkantho@gmail.com)জীবন বৃত্তান্তসহ পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও জাতীয় পরিচয় পত্র সংযুক্ত করে পাঠাতে পারেন।

সিংঙ্গাইগরে হাতুড়ে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় গৃহবধুর মৃত্যু

তরুণকণ্ঠ ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ জুন, ২০২৪, ৩:৫৮ অপরাহ্ন

সিঙ্গাইর, (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি:

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে হাতুড়ে ডাক্তারের ভূল চিকিৎসায় রোজিনা আক্তার৷ (২৪) নামে এক গৃহবধুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

গত শনিবার (১ জুন) উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তার নরেন্দ্র চন্দ্র মালোর বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারীর মৃত্যু হয়। এদিকে বিষয়টি স্থানীয় প্রভাবশালীরা মোটা অঙ্কের টাকায় ধাঁমাচাপা দিয়ে লাশটি ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফন করে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, গত শনিবার (১জুন) বিকেলে চান্দহর ইউনিয়নের চক চালিতাপাড়া গ্রামের খবির হোসেনের স্ত্রী রোজিনা আক্তারের পেটে ব্যথা শুরু হয়। পরে স্বজনেরা তাকে পার্শবর্তী ফতেপুর গ্রামের নরেন্দ্র চন্দ্র মালোর বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়ির মধ্যে জরাজীর্ণ নাম পরিচয়হীন একটি ফার্মেসিতে তাকে চিকিৎসা দেন নরেন্দ্র। বিকেল থেকে রাত ২টা পর্যন্ত রোগী রোজিনাকে ইনজেকশন ও স্যালাইন পুশ করে চিকিৎসা দেন তিনি। রাত ২ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারীর মৃত্যু হয়।

রোজিনা আক্তারের স্বামী খবির হোসেন বলেন, সন্ধ্যা থেকে রাত দুইটা পর্যন্ত আমার স্ত্রীকে বিভিন্ন ইনজেকশন ও স্যালাইন পুশ করেন ডাক্তার নরেন্দ্র। রাত ১১টার দিকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে চাইলে ডাক্তার নরেন্দ্র নিষেধ করেন। ডাক্তার নরেন্দ্র আমাকে বলেন, তোমরাকী আমার চেয়ে বেশি বুঝো নাকি। আর একটা স্যালাইন পুশ করলেই তিনি সুস্থ হয়ে যাবে। রাত দুইটার পরে একটা ইনজেকশন পুশ করার সাথে সাথে আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়।

খবির হোসেন আরোও বলেন, রোববার (২ জুন) সকালে স্থানীয় তিন ইউপি সদস্য দ্বীন ইসলাম, কলিমুদ্দিন ও সালাউদ্দিন এবং স্থানীয় এনামুল হক, দেলোয়ার হোসেনসহ স্থানীয়রা বিষয়টি সমাধান করে দেন। এনিয়ে আর বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করে ও জোর করে সাদা কাগজে আমার স্বাক্ষর রাখে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য দ্বীন ইসলাম বলেন, সকলের সম্মতি নিয়ে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। কাউকে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি। যেহেতু বিষয়টি সমাধান হয়েছে তাই ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করা হয়।

এবিষয়ে কথা বলতে ডাক্তার নরেন্দ্র চন্দ্র মালোর বাড়িতে গেলে তিনি সাংবাদিক দেখে দৌড়ে পালান। পরে আর তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সিঙ্গাইর থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়ারুল ইসলাম বলেন, ভূল চিকিৎসায় মৃত্যুর খবর আমরা পাইনি। তবে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এ সম্পর্কিত

Theme Created By ThemesDealer.Com