রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ১১:১৫ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
অনলাইন নিউজ পোর্টাল “আজকের তরুণকণ্ঠে” জেলা, উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে সাংবাদিক/প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা  ইমেইলে (newstarunkantho@gmail.com) জীবন বৃত্তান্তসহ পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও জাতীয় পরিচয় পত্র সংযুক্ত করে পাঠাতে পারেন।

বাঘায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষ; আ.লীগ নেতা বাবুলে মৃত্যুর খবরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

তরুণকণ্ঠ ডেস্ক
প্রকাশ : বুধবার, ২৬ জুন, ২০২৪, ১০:৫৯ অপরাহ্ন

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাঘায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ঘটনায় উপজেলা আ.লীগ সাধারণ সম্পাদক ও বাঘা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক  আশরাফুল ইসলাম বাবুল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্চা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন  মৃত্যু হয়। এ  খবরে মহাসড়ক অবরোধ কওে ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ করা হয়েছে। বুধবার (২৬ জুন) বিকাল সাড়ে ৫টায় (বাঘা- বানেশ্বর) মহা সড়কে  বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে শত শত নেতাকর্মীরা একত্রি হয়ে মাথায় সাদা কাপড় বেধে ৩ ঘন্টা সড়ক অবরোধ প্রধান আসামী পৌর মেয়র আক্কাছ আলীসহ সকল আসামীদের ফাঁসির দাবিতে সড়কে দুই পাশে টায়ার জালিয়ে, ফেস্টুন, ব্যানার,পোষ্টার নিয়ে বিক্ষোভ করেন উপজেলা আওয়ামীলীগেরসহ অংগ সংগঠনের নেতাকর্মিরা। এ সময়  বাঘা বাজারে গুরুত্বপূর্ণন্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন নবাব, উপজেলা সৈনিক লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মিল্টন, উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নাজমুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ফকরুল ইসলাম বিপ্লব, আড়ানী পৌর কাউন্সিলর কার্তিক চন্দ্র হালদার, বাঘা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মোশারফ হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহাগ, মারুফ মন্ডল প্রমুখ।
জানা গেছে, শনিবার (২২ জুন) সকাল ১০টার দিকে বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের ডাকে উপজেলা পরিষদের সামনে বাঘা পৌরসভার মেয়র আক্কাছ আলীর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে  মানববন্ধন করে উপজেলা আওয়ামীলীগ। অপরদিকে একইদিনে উপজেলা দলিল লেখক সমিতির জমি রেজিষ্ট্রিতে  অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে আক্কাছ সমর্থিতরা। বিক্ষোভ মিছিলটি পৌরসভার সামেনে সড়কে শুরু করে উপজেলা পরিষদের দিকে যাচ্ছিল। বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে উভয়ের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।   এ সময় উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল গুরুত্বর আহত হয়। এতে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা অবনতি হলে নিবিড় পরিচর্ছা কেন্দ্রে(আইসিইউতে) নেওয়া হয়। সেখানে ৬ দিন  চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২৬ জুন) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তার মৃত্যু হয়েছে। আশরাফুল ইসলাম বাবুল (৫৫)  কর্ম জীবনে বাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি  শিক্ষক ও বাঘা পৌর এলাকার গাওপাড়া গ্রামের মৃত  আমির হোসেন আমুর ছেলে। তার মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইউসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল।
ঘটনার পরের দিন ২৩ জুন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহিনুর রহমান পিন্টু বাদী হয়ে বাঘা থানায় একটি দ্রুত বিচার আইনে মেয়র আক্কাছ আলী, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পাকুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মোকাদ্দেসসহ ৪৬ জনের নাম উল্লেখ করে ২০০ থেকে ৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহেদ সাদীক কবীর বলেন, শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে মেয়র আক্কাছ আলীর নেতৃত্বে তিন শতাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সেখানে কয়েকটি পিস্তলের গুলিবর্ষণ করা হয়। আতঙ্কে মানববন্ধন ছেড়ে উপজেলা চত্বরের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া হয়। এরপর তারা এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল ও পাথর ছোড়ে। এ অবস্থায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম উপজেলা অডিটরিয়ামের সামনে পড়ে গেলে তাকে মেয়র আক্ক্যাছ আলী চায়নিজ কুড়াল দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথার বাঁ-পাশে আঘাত করেন আক্কাছ আলী। মামলার ২ নম্বর আসামি মেরাজুল ইসলাম তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আশরাফুল ইসলামের ঘাড়ে আঘাত করেন। আসামিদের ইটপাটকেল ও পাথরের আঘাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের গ্লাস ও কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করায় আনুমানিক ৪০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। আহত আশরাফুল ইসলাম রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ৬ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার তার মৃত্যু হয়েছে।
বাঘা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহিনুর রহমান পিন্টু বাদী হয়ে দ্রুতবিচার আইনে একটি মামলা করেন। এ মামলায় ৪৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আশরাফুল ইসলাম বাবুল মারা যাওয়ার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। অপ্রীতিকর ঠেকানে বিভিন্নস্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


এ সম্পর্কিত

Theme Created By ThemesDealer.Com