রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
অনলাইন নিউজ পোর্টাল “আজকের তরুণকণ্ঠে” জেলা, উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে সাংবাদিক/প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা  ইমেইলে (newstarunkantho@gmail.com) জীবন বৃত্তান্তসহ পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও জাতীয় পরিচয় পত্র সংযুক্ত করে পাঠাতে পারেন।

“তাহরীকে দেওবন্দ”এর নতুন সিলেবাস নিয়ে কেন সমালোচনা?

তরুণকণ্ঠ ডেস্ক
প্রকাশ : সোমবার, ১ জুলাই, ২০২৪, ৪:১১ অপরাহ্ন

গাজী সিদ্দীকুর রহমান:

আলোচিত বইটি থেকে মোটাদাগে যে অংশগুলো সিলেবাসের বাইরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুনরায় পড়ে দেখলাম। তাছাড়া মিশকাত জামাতে পড়াকালীন (২০০৮ইং) দরসে প্রায়ই রিডিং পড়তে হতো, পরে ওস্তাদজি বিশ্লেষণ করে দিতেন। যাহোক বেফাকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বইটির শুরুর দিকে মুজাদ্দিদে আলফেসানী রহমাতুল্লাহ আলাইহির জীবনী, বাদশা আকবরের দ্বীনে এলাহীর বর্ণনা, ভারতবর্ষে ইংরেজদের আগমন তৎপরতা – ও ইংরেজ বিতাড়নে ওলামা- কেরামের অবদান, শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবী, শাহ আব্দুল আজিজ রহমতুল্লাহি আলাইহি এর জীবনী সহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ পড়ে যায়।

বিশেষ করে ২০৯ থেকে ২৫০ পৃষ্ঠা ব্যাপী শায়খুল ইসলাম হযরত হোসাইন আহমদ মাদানী রাহ: এর বর্ণাঢ্য জীবনী বাদ যাবে। এর পেছনে যৌক্তিকতা কী? কেউ কেউ বলছেন এসব ইতিহাসে থানভী – মাদানী দ্বন্দ্বের নিরসন হবে ।

আলোচিত পৃষ্ঠার কোথাও থানুভী সিলসিলার প্রতি বিদ্বেষ তৈরি হওয়ার মতো লেখা নেই । দেশ ও জাতি বা ইসলামের জন্য ক্ষতি করবে এমন বিষয়ও নেই। বরং হযরত হোসাইন আহমদ মাদানী রাহ: জীবনী সম্পর্কে প্রতিটি ছাত্রের জানা উচিৎ।

“যিনি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করার পর ১৪ বৎসর বয়সে তিনি দারুল উলূম দেওবন্দে এসে মীযান জামাতে ভর্তি হন। তখন থেকে শায়খুল হিন্দ রাহ. এর সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠে। ১৩১৫ হিজরীতে দারুল উলূম থেকে শিক্ষা সমাপ্ত করে নিজ বাড়িতে ফিরে যান। এ সময় তার পিতা ইংরেজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সপরিবারের মদীনা শরীফ হিজরতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। হযরত মদনী মদিনায় যাওয়ার পূর্বে হযরত গাঙ্গুহীর কাছে বায়’আত হয়েছিলেন। মদীনায় গিয়ে হযরত হাজী ইমাদাদুল্লাহ রাহ. এর সাথে ইসলাহী সম্পর্কে গড়ে তুলেন এবং পরে হযরত গঙ্গুহী রাহ. থেকে খিলাফত লাভ করেন।

মদীনায় পৌঁছে দীর্ঘ ১৮ বৎসর তিনি মসজীদে নববীতে দরসে হাদীসের খিদমতে নিরত থাকেন। হযরত শায়খুল হিন্দ রাহ, মদীনায় পৌঁছলে উস্তাদের খিদমাতে নিজেকে উৎসর্গ করেন। তখনই তিনি হযরত শায়খুল হিন্দ রাহ. এর সাথে আন্দোলনী তৎপরতায় অংশগ্রহণ করতে শুরু করেন। স্বেচ্ছায় কারা বরণ করে শায়খুল হিন্দের সঙ্গে তিনিও মিশর হয়ে মাল্টায় নীত হন। মাল্টা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর হযরত হুসাইন আহমদ মদনী রাহ. মদীনায় না গিয়ে শায়খুল হিন্দের পরামর্শে তার সঙ্গেই ভারতে চলে আসেন। (দেওবন্দ আন্দোলন: ইতিহাস ঐতিহ্য অবদান-২১০)”

আমাদের সন্তানেরা এমন ক্ষণজন্মা মনীষীর জীবনী সম্পর্কে জানলে সমস্যা কোথায়? এমনিতেই তো এখন ইতিহাস পাঠে আগ্রহ নেই বললেই চলে। তারপর যখন সিলেবাস থেকে বিষয়গুলো বাদ দেয়া হবে তখন তো যুগের পর যুগ এসব ইতিহাস চাপা পড়ে যাবে। নাকি এর মাধ্যমে বিপ্লবীদের সঠিক ইতিহাস থেকে দূরে সরিয়ে পঙ্গু জাতিতে রূপান্তর করার কোন চাপ রয়েছে?

এখনো সময় আছে সিলেবাস নিয়ে একটি সার্বজনীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের। অন্যথায় ফেতনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি। আশা করি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এর দায়িত্বশীল আকাবির হাযারাত পুনঃ বিবেচনা করবেন।
আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

সোমবার | দুপুর ০২:০০মি:
দারুল উলূম মাবিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা
জাবি: সংলগ্ন, গেরুয়া, সাভার, ঢাকা।


এ সম্পর্কিত

Theme Created By ThemesDealer.Com