শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
অনলাইন নিউজ পোর্টাল “আজকের তরুণকণ্ঠে” জেলা, উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে সাংবাদিক/প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা  ইমেইলে (newstarunkantho@gmail.com)জীবন বৃত্তান্তসহ পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও জাতীয় পরিচয় পত্র সংযুক্ত করে পাঠাতে পারেন।

জাপানে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৪৮

তরুণকণ্ঠ ডেস্ক / ৭১ বার পড়েছে.
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৪, ৫:১৮ অপরাহ্ন
জাপানে ভূমিকম্পে

নতুন বছরের প্রথম দিন সোমবার জাপানে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত মানুষের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৪৮ জন বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির ইশিকাওয়া অঞ্চলের কর্মকর্তারা। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিবিসি এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবিসি অনুসারে, ইশিকাওয়া অঞ্চলটি ছিল ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল, যার ফলে সমুদ্রে বড় বড় ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় এবং বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পটি হোনশু দ্বীপের নোটো প্রদেশে আঘাত করলে সেখানকার কর্মকর্তারা উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে উঁচু জায়গায় সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ভূমিকম্পে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো অজানা। তবে বেশ কয়েকটি শহরে কয়েক ডজন ভবন ধসে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে বেশ কিছু মানুষ আটকা পড়েছে।

উদ্ধারকর্মীরা এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারে―এমন লোকদের সন্ধান করছেন। কিন্তু অবরুদ্ধ রাস্তা, ভাঙা গাড়ি ও বিধ্বস্ত বাড়িঘর উদ্ধারকাজে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই অনুসন্ধানকে ‘সময়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ বলে বর্ণনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা।

প্রধানমন্ত্রী কিশিদা বলেছেন, ‘দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সন্ধান ও উদ্ধারের জন্য আমাদের সময়ের সঙ্গে দৌড়াতে হবে। অসংখ্য হতাহতের ঘটনা, ভবন ধসে পড়া, অগ্নিকাণ্ডসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করা যাচ্ছে।’

অন্যদিকে উদ্ধারকারীদের জন্য নোটো উপদ্বীপের উত্তর প্রান্তে পৌঁছনো কঠিন হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অনেক এলাকায় প্রয়োজনীয় নানা পরিষেবাসহ অধিকাংশ রেল পরিষেবা, ফেরি ও ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। ফলে উদ্ধারকাজ আরো জটিল হয়ে উঠছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জাপানের কিয়োডো সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তিনটি এলাকায় ১৯টি চিকিৎসাকেন্দ্রে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কিছু হাসপাতাল রোগীদের স্থানান্তরের কথা বিবেচনা করছে।

প্রায় ৩৩ হাজার পরিবারকে বিদ্যুতের অভাবের কারণে রাতভর হিমাঙ্ক বা তারও নিচের তাপমাত্রা সহ্য করতে হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে থাকছে। জাপানি সামরিক বাহিনী বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হওয়া লোকদের খাবার, পানি ও কম্বল সরবরাহ করছে।

ভূমিকম্পের পর জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জাপান সাগরে বড় সুনামির সতর্কতা জারি করলেও পরে অবশ্য তা তুলে নেওয়া হয়েছে, যার অর্থ সুনামির ঝুঁকি আর নেই।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যেকোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘জাপানি জনগণের জন্য আমরা যেকোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’

জাপানের জনগণের জন্য প্রার্থনা করছেন এবং তার প্রশাসন জাপানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে জানিয়ে বাইডেন আরো বলেছেন, ‘ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান একটি গভীর বন্ধুত্বের বন্ধন ভাগ করে নেয়, যেটা আমাদের জনগণকে একত্র করে।’

এ ছাড়া যুক্তরাজ্যও জাপানকে সহায়তা করতে প্রস্তুত এবং সোমবারের ভূমিকম্পের পর উদ্ধার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক।


এ সম্পর্কিত

Theme Created By ThemesDealer.Com