বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
অনলাইন নিউজ পোর্টাল “আজকের তরুণকণ্ঠে” জেলা, উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে সাংবাদিক/প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা  ইমেইলে (newstarunkantho@gmail.com)জীবন বৃত্তান্তসহ পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও জাতীয় পরিচয় পত্র সংযুক্ত করে পাঠাতে পারেন।

আম-ছালা দুটোই গেল সাবেক মন্ত্রী লতিফ বিশ্বাসের

তরুণকণ্ঠ ডেস্ক / ৭৫ বার পড়েছে.
প্রকাশ : সোমবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৪, ৪:৪৫ অপরাহ্ন
মন্ত্রী লতিফ বিশ্বাসের

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন না পেয়ে সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে আম-ছালা দুটোই হারালেন স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস। তার প্রতীক ছিলেন ঈগল।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও তিনি নির্বাচনে পিছপা হননি। অবশেষে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আব্দুল লতিফ বিশ্বাস তার ঈগল প্রতীক নিয়ে পরাজিত হয়ে ২য় স্থান অর্জন করেন। তার ঈগল প্রতীকে প্রাপ্ত ভোট হচ্ছে ৭৩ হাজার ১৮৩ ভোট। এই নির্বাচনে বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শিল্পপ্রতি আব্দুল মমিন মন্ডল ৭৭ হাজার ৪২২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছে। আব্দুল লতিফ বিশ্বাস নির্বাচনে পরাজিত ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ হারিয়ে এখন হয়েছেন দিশেহারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওয়ামীলীগের মনোনয়ন না পেয়ে গত ২০২৩ সালের (২৮ নভেম্বর) জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে তিনি উঠান বৈঠক, গণসংযোগ আর প্রচারণা করে নির্বাচনী মাঠ অনেকটা গরমও করে ছিলেন। ১৯৯৬-২০০১ ও ২০০৮-২০১৪ সালে দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে তিনি মন্ত্রী হওয়ায় তার জামাতা ও জামার ছোট ভাইয়েরা বেলকুচিতে অনেক অপকর্ম ও দুঃশাসন করেছেন। এ কারণে সাধারণ মানুষ গত ৭ জানুয়ারী নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকা প্রার্থীকে বিজয়ী করেছেন।
আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের রাজনৈতিক জীবনী, তৃণমুল রাজনীতি থেকে উঠে আসা বেলকুচি উপজেলা আওয়ামীলীগের দীর্ঘদিন সভাপতির দায়িত্ব¡ পালন করা আলহাজ আব্দুল লতিফ বিশ্বাস স্থানীয় সরকারেও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। দুই বার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পরে সিরাজগঞ্জ-৫ আসন থেকে ১৯৯৬ সালে প্রথম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে একই আসনে নির্বাচন করে পরাজিত হলেও ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর তিনি ২৪ জানুয়ারি ২০০৯ তারিখে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান এবং ২১ নভেম্বর ২০১৩ তারিখ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব¡ পালন করেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হন। দলের ও সরকারের কোন দায়িত্ব না থাকলেও তিনি সকল দলীয় কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণ করে সিরাজগঞ্জের রাজনীতিতে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেছেন। পরে ২০১৫ সালের (০৮ জানুয়ারি) জেলা আওয়ামীলীগের লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে আব্দুল লতিফ বিশ্বাস সভাপতি নির্বাচিত হয়। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে দ্বিতীয় বারের মতো সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসকের পদে নিয়োগ দেয়া হয়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার জন্য তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের স্ত্রী বেলকুচি পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বর্তমানে বেলকুচি উপজেলা আওয়ামীলীগের  সাধারণ সম্পাদক বেগম আশানুর বিশ্বাস। তার জামাতা এমপি প্রার্থীর আশায় বেলকুচি উপজেলা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন নুরুল সাজেদুল ইসলাম, জামাতার ছোট ভাই বেলকুচি পরিষদের মেয়র মোঃ সাজ্জাদুল হক রেজা।
সোমবার (৮ জানুয়ারি’) দুপুরে বেলকুচি উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের স্ত্রী আশানুর বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মজিদ মণ্ডল অসুস্থ থাকায় তার ছেলে মমিন মণ্ডল মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন, উন্নয়নের দিকে নজর না দেওয়া ও বিএনপি-জামায়াতকে পৃষ্ঠপোষকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।’
আশানুর বিশ্বাস আরও বলেন, গত ৭ জানুয়ারী নির্বাচনে আব্দুল মমিন মন্ডল তার গার্মেন্সের ৩৫টি গাড়ীতে লোকজন নিয়ে এসে সালাম ফকিরের বাড়ীতে অবস্থান করে। পরে মেঘুলা, আজুগরা, আটারদাগ, তামাই, গোপালপুর, চানপুরসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে জাল ভোট প্রয়োগ করেছে। জাল ভোটের কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস হারলেও সাধারণ মানুষের মানের মাঝে রয়েছে তিনি।
সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী’) আসনের এমপি আব্দুল মমিন মন্ডল বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সবাই ভোট কেন্দ্রে এসে উৎসর মুখর ভাবে ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করেছেন। তিনি এমপি ও মন্ত্রী থাকাবস্থায় নির্বাচনী এলাকায় যে অত্যাচার করেছে সাধারণ মানুষেরা ভোটের মাধ্যমে তার জবাব দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর-সদর একাংশ) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় ২ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭১ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী মোঃ জহুরুল ইসলাম লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ১৩৯ ভোট, সিরাজগঞ্জ-২ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত ড. জান্নাত আরা হেনরী ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫৮ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আমিনুল ইসলাম ঝন্টু লাঙ্গল প্রতীকে ৪ হাজার ৫৮০ ভোট, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আব্দুল আজিজ ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৪২ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি সাখাওয়াত হোসেন সুইট স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকে ৪৪ হাজার ৭০৮ ভোট. সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম শফি ২ লাখ ২০ হাজার ১৫ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হিল্টন প্রামানিক লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৭ হাজার ৮৮ ভোট, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত শিল্পপতি আব্দুল মমিন মণ্ডল ৭৭ হাজার ৪২২ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ বিশ্বাস স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন ৭৩ হাজার ১৮৩ ভোট, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চয়ন ইসলাম ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৯০ ভোট তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হালিমুল হক মীরু ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন ২৫ হাজার ৬৭৬ ভোট। এই ৬টি আসনে বেসরকারিভাবে আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।


এ সম্পর্কিত

Theme Created By ThemesDealer.Com