মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
অনলাইন নিউজ পোর্টাল “আজকের তরুণকণ্ঠে” জেলা, উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে সাংবাদিক/প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা  ইমেইলে (newstarunkantho@gmail.com)জীবন বৃত্তান্তসহ পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও জাতীয় পরিচয় পত্র সংযুক্ত করে পাঠাতে পারেন।

ঘিওরে প্রশাসনের চোখে কাঠের চশমা; অবৈধ ড্রেজারে চলছে বালু উত্তোলনের হিড়িক

তরুণকণ্ঠ ডেস্ক / ৭৩ বার পড়েছে.
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৪, ৮:৩৯ অপরাহ্ন
অবৈধ ড্রেজারে চলছে বালু উত্তোলনের হিড়িক

এ.বি.খান বাবু, বিশেষ প্রতিবেদক:

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা প্রশাসনের চোখে কাঠের চশমা। ফলে বন্ধ হয়নি অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলন ও মাটি বিক্রির রমরমা ব্যবসা।

ঘিওরে কালীগঙ্গা নদীতে অবৈধ ড্রেজারে চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব-হিড়িক ফলে হুমকির দ্বারপ্রান্তে সরকারি বেসরকারিসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও বিস্তীর্ণ জনপদ। দীর্ঘদিন যাবৎ প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করা হলেও প্রশাসন নিচ্ছে না কোনো ব্যবস্থা। প্রশাসনের নীরবতায় চলছে অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলনের হিড়িক।

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে হুমকিতে পড়েছে ঘিওর নদীর ওপর নির্মিত সেতু, সরকারি ঘিওর কলেজ, ধর্মীয় মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

জানাগেছে, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে শক্তিশালী একটি চক্র। এ কারণে স্থানীয়রা প্রকাশ্যে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।

স্থানীয়রা জানান, সরকার দলের কিছু কতিপয় নেতারা ঘিওরের সরকারি কলেজ এবং ব্রীজের পাশে নদী থেকে প্রতিদিন একযোগে ৫ টি অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অবৈধ ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে হুমকিতে পড়েছে ব্রীজ, সরকারি স্কুল কলেজ, মন্দির, মানুষের ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা। অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে বর্ষায় তাদের এলাকায় বন্যা ও নদীভাঙন দেখা দেয়। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও অজ্ঞাত কারণে নেওয়া হচ্ছে না কোনো আইনি ব্যবস্থা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘিওর উপজেলার সরকারি কলেজের পিছনে কালীগঙ্গা নদীতে একযোগে ৫টি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আর পাইপের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডোবা নালা ভরাটের কাজ চলছে।

হিন্দু সম্প্রাদায়ের এক ব্যক্তি বলেন, যুবলীগ নেতা আমিনুর বেপারী, ছাত্রলীগ নেতা রনি, আব্দুল বাতেন এরা দীর্ঘদিন যাবত নদীতে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। এতে হুমকিতে পড়েছে আমাদের ধর্মীয় মন্দির। এদের অবৈধ ড্রেজার ব্যবসার বিরুদ্ধে আমাদের কথা বলার সাহস নেই। আমরা নিরুপায় হয়ে পড়েছি।

ড্রেজার ব্যবসায়ী আমিনুর বেপারী বলেন, ভাই আমার ড্রেজার বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে তাপস আর বাতেন ড্রেজার চালাচ্ছে। আরেক ড্রেজার ব্যবসায়ী তাপসের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আপনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রনির সাথে যোগাযোগ করেন। সব ড্রেজার বিষয়ে রনিই জানে।

এ প্রসঙ্গে ঘিওর উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা মেহেদি হাসান রনি বলেন, আমি এসব ড্রেজারের সাথে জড়িত না।

এ ব্যাপারে ঘিওর বালু মহলের ইজারাদার আবুল বাশার বলেন, চরের বাহিরে যেসব ড্রেজার চলছে এগুলোর দায় দায়িত্ব আমার না। কে কিভাবে ড্রেজার চালাচ্ছে আমি জানি না।

এ বিষয়ে ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুর ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি মিটিংয়ে আছি। আসুন, সাক্ষাতে কথা বলি।


এ সম্পর্কিত

Theme Created By ThemesDealer.Com