শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১১:০৪ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
অনলাইন নিউজ পোর্টাল “আজকের তরুণকণ্ঠে” জেলা, উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ে সাংবাদিক/প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা  ইমেইলে (newstarunkantho@gmail.com)জীবন বৃত্তান্তসহ পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও জাতীয় পরিচয় পত্র সংযুক্ত করে পাঠাতে পারেন।

সিংগাইরে পুলিশের উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক খুন

তরুণকণ্ঠ ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪, ৬:০৪ অপরাহ্ন
সিংগাইরে পুলিশের

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে দু’গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দু’দফায় সংঘর্ষে একাধিক ব্যক্তি আহত হন। এদের মধ্যে আব্দুল কুদ্দুস (৫২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে আটিপাড়া জামে মসজিদের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কুদ্দুস উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের আটিপাড়া গ্রামের মৃত মিনাজ উদ্দিনের পুত্র। তিনি সিরাজপুর বাজারে বাঁশের ব্যবসা করতেন।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকাল ৭ টার দিকে ব্যবসার উদ্দেশ্যে সিরাজপুর হাটের যাওয়ার সময় হাটের উত্তর পাশে আবু কালামের নেতৃত্বে মিলন, জুবায়ের, আব্দুল আলীম, রাসেল, জব্বার, হারুনসহ ১০-১৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শাহিনুর ও ফারুকের ওপর হামলা করে।

এসময় হামলাকারীদের দা’এর কোপে শাহিনুরের বাম পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ফারুক রক্তাক্ত জখম হয়। এরপর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে শান্তিপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আব্দুস সালাম মিয়া সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পুলিশের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় দফায় আটিপাড়া মসজিদের সামনের পাকা রাস্তায় ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুসের উপর আবারো হামলা করে তারা।

এসময় তাদের এলোপাথাড়ি দা’এর কোপে গুরুতর আহত হন আব্দুল কুদ্দুস। ভাইকে বাঁচাতে বোন জাবেদা এগিয়ে গেলে তিনিও রক্তাক্ত জখম হন। আহত কুদ্দুসকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ১০ টার দিকে তাহার  মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই আব্দুল কুদ্দুসকে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়। পুলিশ ব্যবস্থা নিলে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতো না।

এদিকে, প্রথম সংঘর্ষের ঘটনায় শাহিনুর ইসলাম বাদী হয়ে আবু কালামকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এরমধ্যে ওই মামলার ১০ নং আসামি মৃত রতনের ছেলে হারুনকে (৩৮) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অপরদিকে, দ্বিতীয় ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

সিংগাইর থানার অন্তর্গত শান্তিপুর (বাঘুলি) তদন্তকেন্দ্রের এসআই আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, কোনোভাবেই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারিনি। আমাদের কথা না শোনায় এমন ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি ওসি ও সার্কেল স্যার অবগত। প্রথম ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং দ্বিতীয় ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত হারুন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। রবিবার দুপুরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নিহতের পরিবারসহ এলাকায় বইছে শোকের মাতম।

এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জিয়ারুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করে বলেন, প্রথম ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং দ্বিতীয় ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি।


এ সম্পর্কিত

Theme Created By ThemesDealer.Com